দায়ী আমিই…

গতকাল খুব স্টেক খেতে ইচ্ছা করছিল। হাতে সময় ছিল। বাজার হল, রান্না হল, খাওয়াও হল। আর একটা বিপদ হল। তেল! রান্নায় তেল বেশি পরে গেছে। কি আর করার। কিচেন পেপার এ মুছে নীল ময়লার ব্যাগে ফেলে দিলাম। দেশে থাকলে নিশ্চয়ই সিঙ্ক এ ফেলে দিতাম দ্বিতীয় বার চিন্তা না করে। জাপানে করলে খবর আছে। সিঙ্ক এ তেল ফেললে পরের দিন সরকারের লোক হাজীর হয়ে যায়। এই জন্য বোধয় এদের ড্রেন আটকায় না।

জাপান এ আসার পর পর ওয়ার্ড অফিস এ যাওয়া লাগে। প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে নানা ফরম ফিলআপ করা লাগে। এর মধ্যে এরা একটা বই ধরায় দেয়। “কিভাবে ময়লা ফেলতে হয়”। মজা নেয় নাকি আমার সাথে? বেশির ভাগ কাগজপত্র জাপানিজ এ হলেও, এ বই ছিল ইংরেজিতে। প্রায় তিন বছর হয়ে গেল জাপানে থাকা। এখনও মাঝে মধ্যে বইটা দেখা লাগে।

জাপানে আবর্জনা ৪ প্রকারের। ১) পচনশীল / জৈবিক ২) প্লাস্টিক ৩) PET বোতল ৪) কাচের বোতল / ক্যান । প্রত্যেক প্রকার আবর্জনার জন্য আলাদা রং এর ব্যাগ। সেগুলা আবার টাকা দিয়ে কেনা লাগে। ময়লা ফেলার আগে ঠিক ভাবে ভাগ করে আলাদা আলাদা ব্যাগে রাখতে হবে। তাও শান্তি নাই। সেই ব্যাগ আবার মনের ইচ্ছা মত যেখানে খুশি ফেলে যাবে না। নির্ধারিত দিনে, নির্ধারিত যায়গায় ফেলতে হবে। ভুলে গেলে আবার পরের সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা। কি ঝামেলারে বাবা।

ঝামেলা হলেও একটা শান্তি আছে। কনফারেন্স এর জন্য যখন জাপান এর বাইরে যাই, তখন বুঝতে পারি। জাপানীদের রিসাইক্লিন টেকনোলজি খুব উন্নত। মানলাম প্রত্যেক সপ্তাহে আমার ২টা মিনিট সময় বেশি লাগে, ৩ টা ব্যাগ ঠিক ঠাক মত তৈরি করতে। কিন্তু দিন শেষে বাসায় ফিরার সময় কন কালো ধুয়া খাই না। বৃষ্টি বেশি হলে রাস্তা ডুবে ঠিকই, তবে ময়লার কারনে ড্রেন আটকায় না। আটকালেও সমস্যা নাই। নদীর পানির মত। একটু ঘোলা আরকি।

ভাবছি এবার ছুটিতে দেশে ফিরে স্টেক রান্না করে বাসায় সবাই মিলে খাবো। তেল বেশি হলে সমস্যা নাই। সিঙ্ক এ ফেললেই হবে। দেশেতো আর লাল, নীল, বেগুনি ব্যাগ এর মাথা ব্যাথা নাই। যাক বাবা। আমার ২টা মিনিট বাঁচল।

[আমার জানা মতে বাংলাদেশে recycling এর জন্য সরকার থেকে কোন উদ্দক নাই। বাক্তিগত ভাবে বা বেসরকারি ভাবে কেও করে থাকলে আমাকে জানাবেন অনুগ্রহ করে 🙂 🙂 ]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.